বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে কলকারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য জমি বাছাই করা উচিত।এ ছাড়া শুভ মুহূর্ত দেখে কলকারখানা ভবনের নির্মাণের কাজ শুরু করা বাঞ্ছনীয়।যদি কেউ নতুন কারখানা সস্থাপনে উদ্যোগী হন এবং এই সমস্ত নিয়ম যদি তিনি পালন করেন, তবে অল্প দিনের মধ্যেই কারখানার উন্নতি হবে।যে সব কারখানা সমস্যার মধ্যে দিয়ে চলছে সেখানেও যদি বাস্তুশাস্ত্রের নিয়ম অনুসারে বদল করা যায় তবে সেই সব কারখানাও সুষ্ঠুভাবে চলতে শুরু করবে।নীচে এই সম্পর্কে কিছু তথ্য সন্নিবেশিত হল।

যে জমি আর্দ্র, যার তলায় পানির স্তর বেশি নীচে নয়, এরকম উর্বরা জমি কলকারখানার পক্ষে অনুকুল।কলকারখানার জমি যেন পূর্ব বা উত্তর দিকে ঢালু হয়।জমির উত্তর-পূর্ব অংশ যেন কোনওভাবেই কাটা না হয়।নীচের চিত্রে উত্তর বা পূর্ব দিকের ঢাল বুঝানো হলো।

চিত্রঃ

উত্তর বা পূর্ব দিক্‌ যদি উঁচু থাকে তা হলে নির্মাণকার্য শুরুর আগে জমিকে সমান করে নেওয়া উচিত।কোনও মতেই যেন দক্ষিণ বা পশ্চিমে নিচু না থাকে।

কলকারখানায় প্রবেশ করার রাস্তা যদি উত্তর বা পূর্বদিকে থাকে তা হলে খুব ভাল।পশ্চিম দিকে রাস্তা মাঝারি ধরণের অনুকুল এবং দক্ষিণ দিকে রাস্তা আদৌ ভাল নয়।

উত্তর কিংবা পূর্ব দিকে কলকারখানার প্রধান ফটক হওয়া বাঞ্ছনীয়।এটা শুভ।এ ধরণের গেটযুক্ত কলকারখানায় মালিক ও শ্রমিক উভয়েই লাভবান হবেন।দক্ষিণ দিকে কলকারখানার প্রধান দরজা করা উচিত নয়, কারণ এই দিকগুলি হল দুর্বল, নিম্নস’।কলকারখানার প্রধান দরজার রং সবুজ অথবা নীল হওয়া বাঞ্ছনীয়।

কলকারখানার মধ্যে নলকুপ বা জলধার উত্তর-পূর্ব দিকে হওয়া উচিত।নলকুপ বা মাটির তলার জলাধার কখনওই দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব, দক্ষিণ-পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিকে হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়।ওভারহেড ট্যাঙ্ক উত্তর-পূর্ব দিকে হবে না।বরং দক্ষিণ, পশ্চিম বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে হওয়া বাঞ্ছনীয়।

ফার্নেস, বয়লার, চিমনি, হিটার, জেনারেটর, বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন ইত্যাদি দক্ষিণ-পূর্ব দিকে রাখতে হবে।কারণ কলকারখানার এই দিকটা ‘আগ্নেয়’ এলাকা।কারখানার চিমনি দক্ষিণ-পূর্বের পূর্ব দিকে রাখা যেতে পারে।

জমির দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে কারখানা করা উচিত।কলকারখানার ছাদ ও শেড ঢালু হবে পূর্ব দিকে অথবা উত্তর দিকে।মনে রাখতে হবে ছাদের চূড়া কলকারখানার বাড়ির পশ্চিম বা দক্ষিণ অংশে থাকবে।

কলকারখানা, শিল্প-প্রতিষ্ঠানের অফিস হবে সীমানা প্রাচীর থেকে কিছুটা দূরে উত্তর অথবা মধ্য-পূর্ব দিকে।ছবিতে মূল কারখানা ও প্রশাসনিক ভবনের অবস্থান দেখানো হল।

চিত্রঃ

কলকারখানা সংলগ্নলন বা সবুজ অংশ উত্তর অথবা পূর্ব দিকে তৈরি করতে হবে।লম্বা উঁচু গাছ কারখানার দক্ষিণ-পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিকে লাগাতে হবে।

প্রশাসনিক ভবনের উচ্চতা মূল কারখানা থেকে নিচু রাখতে হবে।ছবির মাধ্যমে তা বোঝানো হল।

ছবিঃ

কারখানার গুদাম বা ষ্টোর রুম থাকবে দক্ষিণ-পশ্চিম, দক্ষিণ অথবা পশ্চিম দিকে।কাঁচামাল, আধা তৈরি মাল এবং তৈরি মাল যথাক্রমে দক্ষিণ-পশ্চিম, মধ্য-পশ্চিম এবং উত্তর-পশ্চিম দিকে মজুত রাখতে হবে।কাঁচামাল অথবা তৈরি মাল উত্তর-পূর্ব দিকে মজুত করা বাঞ্ছনীয় নয়।কারণ এই এলাকাটি অত্যন্ত হালকা ধরণের।মোটরগাড়ি ও অন্যান্য যানবাহন উত্তর-পশ্চিমের উত্তর দিকে অথবা দক্ষিণ-পূর্বের পূর্ব দিকে রাখতে হবে।

হালকা ওজন যন্ত্র মধ্য-পশ্চিম অথবা মধ্য-উত্তর দিকে কারখানার ফটকের কাছে রাখা বাঞ্ছনীয়।বড় বিশেষ ভারী ওজন যন্ত্র দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমের পশ্চিম দিকে রাখা উচিত।নীচের চিত্রে ওজন যন্ত্র স্থাপনের বিকল্প দেখানো হলো।

কারখানায় ইবাদতখানা, অভ্যর্থনা, অতিথি-আবাস ও পানীয় জলের ব্যবস্থা রাখতে হবে উত্তর-পূর্ব দিকে।কর্মী ও শ্রমিকদের শৌচাগার ও গোসলখানা থাকবে কারখানা বাড়ির দক্ষিণ বা পশ্চিম দিকে।কর্মচারী ও শ্রমিকদের ক্যান্টিন থাকবে কারখানার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে।বিভিন্ন দফতরের স্থান নীচে ছবির মাধ্যমে দেখানো হল।

চিত্রঃ

নিরাপত্তা রক্ষীদের অফিস প্রবেশ দ্বারের উপর নির্ভর করে।যদি কারখানার উত্তর-পূর্বের পূর্ব দিকে প্রধান দরজা তৈরি করা হয় তা হলে তার দক্ষিণ দিকে নিরাপত্তা বাহিনীর ঘর হবে।যদি প্রবেশদ্বার উত্তর-পূর্বের উত্তর দিকে হয় তা হলে নিরাপত্তা বাহিণীর ঘর উত্তর-পূর্বের পশ্চিম দিকে করা উচিত।নীচের ছবির মাধ্যমে বিকল্পসহ দেখানো হল।

চিত্রঃ

কারখানার মেশিনপত্র বসাবার সময় খেয়াল রাখতে হবে যাতে সবচেয়ে ভারী মেশিনপত্র দক্ষিণ বা পশ্চিম দিকে বসে।কাঁচামাল রাখার জায়গা কারখানার ভিতরের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে হওয়া উচিত।উৎপাদনে নিয়োজিত কাঁচামাল এবং প্রায় সম্পূর্ণ মাল রাখার জায়গা কারখানার ভিতরের পশ্চিমাঞ্চলে হওয়া উচিত।তৈরি মাল এবং সরবরাহ করার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত মাল কারখানার উত্তর-পশ্চিম দিকে রাখা উচিত।

চিত্রঃ

একটি আদর্শ কারখানার নমুনা

চিত্রঃ

১। প্রধান দরজা, ছোট অথবা সহায়ক যন্ত্রপাতি, কর্মচারীদের থাকার বাসস্থান, ওজন যন্ত্র, পণ্য বিক্রির অফিস, ক্যাশ বা হিসাব পরীক্ষকের অফিস।
২। দরজা, প্রশাসনিক অফিস, টিউবওয়েল, ভূগর্ভস্থ জলাধার, মসজিদ, অতিথিশালা, অভ্যর্থনা গৃহ, উম্মুক্ত বাগান, চিকিৎসালয়।
৩। প্রধান দরজা, ছোট সহায়ক যন্ত্রপাতি, কারখানার অফিস, সময় নিয়ন্ত্রণ অফিস।
৪। ফার্নেস, বয়লার, চিমনি, জেনারেটর, বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন, গাড়ি রাখার জায়গা, ক্যান্টিন, বড় গুদাম, অগ্নি সঞ্চালিত ওয়ার্কশপ, অ্যাসিড ট্যাঙ্ক।
৫। ভারী যন্ত্রপাতি, ওজন যন্ত্র, শৌচাগার বা স্নানাগার, কর্তার অফিস।
৬। ষ্টোর ও গুদাম, ভারী যন্ত্রপাতি ও সাজসরঞ্জাম, পরিত্যক্ত লোহা-লক্কড় রাখার স্থান।
৭। কারখানার কাঁচামাল ও ভারী ওজন যন্ত্র।
৮। কারখানার অফিস, মালপত্র রাখার গুদাম, হালকা যন্ত্রপাতি, সেলস্‌ অফিস।
৯। খালি জায়গা বা বাগান। কোনও ভারী যন্ত্রপাতি যেন এখানে বসানো না হয়।
(Commenting: OFF)

মানব সভ্যতার বিকাশ মানুষের জন্ম, পরিবেশ ও বাসস্থানের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। জ্যোতিষ মানুষের জন্ম ও তার জীবনযাত্রার পরিকল্পনার বিস্তারিত জ্ঞানের সঙ্গে পরিচয় ঘটায়।অনুরূপভাবে বাস্তুশাস্ত্র মানুষের বাসস্থান সম্পর্কিত পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করে জীবনকে সমৃদ্ধিশালী করে।

জ্যোতিষশাস্ত্রের রয়েছে তিনটি মূল ধরা।গণিত, ফলিত এবং সংহিতা।গণিত অর্থাৎ অঙ্ক, ফলিত অর্থাৎ যা ফলে আছে বা ঘটছে এবং তৃতীয় ভাগটি হল সংহিতা অর্থাৎ সংকলন।বাস্তুশাস্ত্র এই সংহিতারই একটি অংশ।এ দিকে পুরাণ শাস্ত্রমতে বাস্তু আদতে জ্যোতিষেরই অঙ্গ।বলা হয়ে থাকে বাস্তু জ্যোতিষের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।জ্যোতিষের কর্ম কাল বা সময়কে কেন্দ্র করে।যে কারণে জ্যোতিষশাস্ত্রের পুরুষসূক্তে যে মানুষের কল্পনা করা হয়েছে তার অভিধান হল কালপুরুষ।জ্যোতিষমতে ১২টি রাশি হল কালপুরুষের ১২টি অঙ্গ।জ্যোতিষ যেমন সময় বা কাল নিয়ে কাজ করে তেমনই বাস্তুশাস্ত্র কাজ করে স্থান, আকার স্থাপত্য নিয়ে।মাননজীবনে দুটির প্রভাবই খুব গুরুত্বপূর্ণ।এ সম্বন্ধে “বরাহমিহির” তাঁর রচিত গ্রন’ “যোগযাত্রা”-য় দুটি খুব সুন্দর ও সহজ উদাহরণ দিয়েছেন কাল স্থান নিয়ে।যেমন- কাক রাতের বেলায় পেঁচার দ্বারা আক্রান্ত ও নিহত হয়।কিন্তু এর ঠিক উলটো দৃশ্য দেখা যায় দিনেরবেলায়।দিনের বেলায় পেঁচা স্বয়ংই কাকের দ্বারা আক্রান্ত ও নিহত হয়ে থাকে।সময় যে কত বলবান তা আমরা এই উদারহরণটির সাহায্যে বুঝতে পারি।

অনুরূপ স্থান সম্বন্ধেও একটি সহজ উদাহরণ তিনি তাঁর বইতে দিয়েছেন।যেমন- শুকনো জায়গায় বা ডাঙায় কুমির সিংহের দ্বারা নিহত হয়।কিন’ এর ঠিক বিপরীত কান্ড হয় কুমির যখন সিংহকে পানিতে পায়।তখন কুমির সিংহকে আক্রমণ করে এবং হত্যা করে।স্থান বা জায়গায় গুরুত্ব যে কতটা মানবজীবনকে প্রভাবিত করে তা ওপরের উদাহরণ থেকে আন্দাজ করা যায়।

পাঞ্চভৌতিক তত্ত্বেই বাস্তুশাস্ত্রের ভিত্তি নির্ভর করে আছে।এই পঞ্চভুতই জ্যোতিষের ভিন্ন অঙ্গ।আকাশে অবস্থিত বিভিন্ন তারামণ্ডল বারোটি রাশিতে বিভক্ত।আর এই রাশিগুলিই পঞ্চভূতের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।মেষ, সিংহ, ধনু রাশির তত্ত্ব হল অগ্নি।বৃষ, কন্যা ও মকর রাশির তত্ত্ব পৃথিবী।মিথুন, তুলা ও কুম্ভ হল বায়ুতত্ত্ব।কর্কট, বৃশ্চিক ও মীন পানি তত্ত্বের রাশি।এই সকল রাশিই আকাশের বিভিন্ন তারামণ্ডলের সঙ্গে যুক্ত জ্যোতিষ ও বাস’শাস্ত্র উভয়ের মধ্যে দিকের বিশেষ গুরুত্ব আছে।

জ্যোতিষ শাস্ত্রের মহান গ্রন্থ “জাতক পারিজাত”-এ আটটি দিকের উল্লেখ আছে।অমর কোষে বিভিন্ন দিক্‌ সম্পর্কে বলা হয়েছে যে,

গ্রহ দিক্‌ গ্রহ দিক্‌
রবি পূর্ব শনি পশ্চিম
শুক্র আগ্নেয় চন্দ্র বায়ব্য
মঙ্গল দক্ষিণ বুধ উত্তর
রাহু নৈর্ঋত বৃহস্পতি ঈশান
ধর্মশাস্ত্রে দশটি দিকের এবং দশ দিক্‌পালের উল্লেখ আছে।বাস্তুশাস্ত্রেও অনুরূপ উল্লেখ আছে।জ্যোতিষশাস্ত্রে যে আটটি দিকে নয়টি গ্রহের কথা বলা হয়েছে, বাস’শাস্ত্র তাকে মেনে নিয়েছে।নীচের ছবির মাধ্যমে সেই দশ দিক্‌, দশ দিক্‌পাল এবং জ্যোতিষের নটি গ্রহের পরস্পরের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কযুক্ত তা দেখানো হয়েছে।

চিত্রঃ

কোষ্ঠী বা জন্মছকে বিভিন্ন দিক্‌ সম্বন্ধে গণনার সময় নীচের চিত্রের সাহায্যে ধারণা করা হয়।

চিত্রঃ

কোষ্ঠী তৈরি করতে সর্বাধিক গুরুত্বপুর্ণ বিষয হয় ‘স্পষ্ট লগ্ন’।জন্মের সময় জন্মস্থানের আকাশ পরিমণ্ডলের অবস্থানই হল কোষ্ঠী বা জন্মকুণ্ডলী।স্পষ্ট লগ্নের ভিত্তি পূর্ব দিককেই গণ্য করা হয়।জন্মের সময়ই ওই স্থানে যে রাশি পূর্ব দিকের ক্ষিতিজে অবস্থিত, ওই রাশির অংশ কলা-বিকলা গণনা করে যে রাশিমান নির্ধারণ করা হয় সেটিই ‘স্পষ্ট লগ্ন’।একবার পূর্ব দিক্‌ জেনে নেওয়ার পর সকল দিককে কোষ্ঠীতে স্থাপন করা হয় এবং কোষ্ঠী তৈরি করা হয়।জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে বিভিন্ন রাশি ও বিভিন্ন দিকের অবস্থানকারী।

দিক্‌ রাশি
পূর্ব দিকে অবস্থানকারী মেষ, সিংহ ও ধনু
পশ্চিম দিকে অবস্থানকারী মিথুন, তুলা ও কুম্ভ
উত্তর দিকে অবস্থানকারী কর্কট, বৃশ্চিক ও মীন
দক্ষিণ দিকে অবস্থানকারী বৃষ, কন্যা ও মকর

বিভিন্ন জ্যোতিষ গ্রন্থ অনুসারে এই সব রাশি যদি উপরোক্ত দিকে থাকে তা হলে এরা ‘দিগবল’ লাভ করে।অনুরূপভাবে বিভিন্ন গ্রহও পৃথক প্রথক দিকের গ্রহও নিযুক্ত হয়েছেন।নবগ্রহের শান্তি স্বস্তয়নাদি পদ্ধতিতে বিভিন্ন দিকের অধিপতি গ্রহ হল :

দিক অধিপতি দিক অধিপতি
পূর্ব সূর্য পশ্চিম শনি
দক্ষিণ-পূর্ব শুক্র উত্তর-পশ্চিম চন্দ্র
দক্ষিণ মঙ্গল উত্তর বুধ
দক্ষিণ-পশ্চিম রাহু ও কেতু উত্তর-পূর্ব বৃহস্পতি

চিত্রঃ

এইভাবেই জ্যোতিষশাস্ত্রে বিভিন্ন গ্রহ বিভিন্ন দিকে অবস্থিত হওয়ার দরুন গ্রহকে ‘দিগবলী’ বলা হয়।জ্যোতিষশাস্ত্রে কোষ্ঠীতে কেন্দ্রের অত্যন্ত গুরুত্ব থাকে।চারটি কেন্দ্রস্থান আছে।প্রথম, চতুর্থ, সপ্তম ও দশম ভাব।বাস্তুশাস্ত্রেও কেন্দ্রস্থান অর্থাৎ নীচের চিত্রে স্পষ্ট করে দেখানো হল :

চিত্রঃ

চতুর্থের কারক গ্রহ চন্দ্র ও বুধ।তৃতীয় ভাব বোঝায় জাতকের পরাক্রম, উদ্যম, পারিবারিক ও ভ্রাতৃসুখ, প্রবাসে সুখ, সজ্জা ও পবিত্রস্থান।এর কারক গ্রহ হচ্ছে মঙ্গল।মঙ্গল ভূমিকারক গ্রহ।আর চতুর্থ স্থান হচ্ছে ভূমি, ভবন, বাহন এবং সুখের সম্পর্কিত।এই সুখের জন্য চতুর্থেশ কেন্দ্রে বা ত্রিকোণে হওয়া অনিবার্য।এ ছাড়া চতুর্থভাবে শুভদৃষ্টি ও শুভ গ্রহের যূথী হওয়া বিশেষভাবে বাঞ্ছনীয়।দশাবিচার মতে জ্যোতিষশাস্ত্রে জাতকের জন্মপত্রের বা ছকের চতুর্থ স্থান থেকে জাতকের সুখ, সম্পত্তি, বাড়ি ও বাহন সম্বন্ধে ধারণা করা যায়।চতুর্থ স্থানে গ্রহের অবস্থান অনুযায়ী জাতক ওই জিনিসগুলি কতটা অনায়াসে অর্জন করবে সে ব্যাপারে বলা যায়।

অভিজ্ঞ জ্যোতিষীকে বাস্তু সম্পর্কে কোনও প্রশ্নাদি করা হলে তিনি জাতকের জন্ম ছকের চতুর্থের ভাব, চতুর্থপতি লগ্ন থেকে কোথায় অবস্থান করছেন তা দেখে এবং ষোড়শবর্গের চতুর্থাংশের স্থান বিচার করে বলতে পারেন যে জাতকের স্বগৃহ লাভ কবে, কীভাবে এবং কীকরে সম্ভব।

ভূমি এবং বাড়ি প্রাপ্তিযোগ :

  • লগ্নপতি এবং সপ্তমপতি যদি চতুর্থভাবে থাকে তা হলে অনায়াসে গৃহলাভ হয়।
  • চতুর্থাধিপতি যদি সগৃহী এবং তুঙ্গ বা উচ্চ হয় তবে উত্তম বাড়ি প্রাপ্তি হয়।
  • চতুর্থপতি দশমে থাকলে ও শনির দ্বারা দৃষ্ট হলে পুরনো বাড়ি প্রাপ্তি হয়।
  • যদি ধনপতি, লগ্নপতি ও আয়পতি চতুর্থভাবে একসঙ্গে যূথী অর্থাৎ যোগ হয় তবে জাতক একাধিক বাড়ির মালিক হয়।
  • চতুর্থপতি যদি অষ্টমভাবে থাকে তা হলে শ্রেষ্ঠ বাড়ি প্রাপ্তি হয়।
  • যদি চতুর্থপতি এবং দশপতি পরস্পর স্থান বিনিময় করে তবে অতুল ভূমির ও বাড়ির মালিক হয়।
  • চতুর্থপতি পঞ্চমভাবে হলেও জাতক জমির মালিক হয়।
  • চতুর্থপতি সপ্তমভাবে থাকলে জাতক স্ত্রীর মাধ্যমে জমি বা বাড়ি প্রাপ্ত হয়।

চতুর্থপতি যদি ষষ্ঠভাবে থাকে হা হলে বাদ-বিবাদ বা মামলা-মকর্দমার পর অথবা মাতুল পক্ষ থেকে জাতকের বাড়ির অধিকার প্রাপ্তি হয়।
বৃষ লগ্নে যদি চতুর্থভাবে সূর্য থাকে তবে অস্থায়িভাবে বাড়ি পাওয়া যায়।
কর্কট লগ্নে যদি চতুর্থের বৃহস্পতি থাকে তবে জাতকের বাড়ি, জমি বাগান ইত্যাদি লাভ হয়।
চতুর্থাধিপতি কেন্দ্র বা ত্রিকোণে শুভগ্রহ যুক্ত থাকলে উত্তম গ্রহের প্রাপ্তি হয়।
লগ্নাধিপতি আর সপ্তমপতি যদি লগ্নে বা চতুর্থভাবে থাকে এবং শুভ গ্রহের দৃষ্টিযুক্ত থাকে তবে জাতকের নিশ্চিতভাবে গৃহপ্রাপ্তি যোগ হয়।
নবমাধিপতি যদি কেন্দ্রে থাকে এবং চতুর্থপতি যদি স্বক্ষেত্রে অথবা মূলত্রিকোণে থাকে তা হলেও জাতকের সহজে বাড়ি বা জমি লাভ হয়।
চতুর্থপতি যদি মেষ, কর্কট, তুলা ও মকর অর্থাৎ চর রাশিতে থাকে এবং শুভগ্রহ যুক্ত ও দৃষ্ট হয় তবে জাতকের একাধিক ভবনে বাস হয় অর্থাৎ ভবনপরিবর্তন হয়। এর বিপরীত চতুর্থপতি যদি স্থির রাশিতে থাকে যথা বৃষ, সিংহ, বৃশ্চিক ও কুম্ভ তা হলে জাতকের দীর্ঘস্থায়ী ভবনে বাস হয়।
যদি জন্মকুণ্ডলীতে তৃতীয় স্থানের অধিপতি চতুর্থভাবের অধিপতির সঙ্গে থাকে তা হলে ভ্রাতা দ্বারা ভূমিপ্রাপ্তি হয়। কিস্তু এই যোগ যদি বিপরীতভাবে ক্ষেত্র বিনিময় করে তবে জাতক নিজের ভাইকে বাড়ির অধিকার দেয়।

জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুসারে বাস্তু দোষ জানার উপায়

বাস্তুশাস্ত্র সম্বন্ধে জানতে গেলে গৃহকর্তা, গৃহকর্ত্রী এবং যিনি গৃহের প্রধান রোজগার কর্তা এই তিনজনের জন্মছক থেকে বাস’দোষ সম্বন্ধে ধারণা করা যায়।সাধারণভাবে লগ্নের চতুর্থ স্থানের রাহু, মঙ্গল এবং রাহু শনি এই দু’গ্রহের যূথী বাস্তুদোষের দিকে ইঙ্গিত করে।কুণ্ডলীতে ‘কালসর্প’ দোষও বাস’দোষকে ইঙ্গিত করে।

নবগ্রহ ও বাড়ির কোষ্ঠী:

নটি গ্রহের সঙ্গে বাড়ির স্থায়িত্বের সম্পর্কও বাস্তু মতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।গ্রহ কোন লগ্নে এবং কোন স্থানে অবস্থান করলে বাড়ি কত বছর স্থায়ী হয়, বাস্তু-জ্যোতিষশাস্ত্রীরা এ নিয়েও গণনা করেছেন।বাড়ি তৈরির সময় লগ্ন দশম, একাদশ স্থানে যথাক্রমে শুক্র, বুধ ও রবি এবং বৃহস্পতি কেন্দ্রস্থলে থাকলে বাড়ি টিকে থাকবে শত বছর।চতুর্থ ঘরে বৃহস্পতি, দশমে চন্দ্র ও একাদশে শনি বা মঙ্গল হলে বাড়ি আশি বছর থাকবে।

বাড়ি তৈরির সময় বৃহস্পতি, রবি, বুধ, শুক্র ও শনি এগুলি যথাক্রমে লগ্নের ষষ্ঠ, সপ্তম, চতুর্থ ও তৃতীয় স্থানে থাকলে সে বাড়ি টিকবে একশো বছর।লগ্নে শুক্র, তৃতীয়তে রবি, ষষ্ঠ ঘরে মঙ্গল ও পঞ্চমে বৃহস্পতি থাকলে সে বাড়ি দুশো বছর টিকবে।গ্রামই হোক অথবা শহর, লগ্নে চন্দ্র, সপ্তম ঘরে বৃহস্পতি, দশম ঘরে বুধ অথবা শুক্র থাকলে, বুধ যদি একই লগ্নে থাকে, তা হলে বাড়ি করলে ছয় শত বছর স্থায়ী হয়।যদি লগ্নে শুক্র, বৃহস্পতি নির্দিষ্ট রাশিতে অর্থাৎ সপ্তম ঘরে থাকে তা হলে বাড়ির মালিক দীর্ঘজীবী হবেন এবং বাড়ি টিকে থাকবে আটশো বছর।লগ্নে রবি, সপ্তম ঘরে বৃহস্পতি, দশম ঘরে চন্দ্র- এরকম অবস্থায় বাড়ি করলে তা টিকে থাকবে সহস্র বছর অর্থাৎ এক হাজার বছর।উচ্চ কর্কটরাশির বৃহস্পতি চতুর্থ ভাগে অথবা শনির একাদশ স্থানে তুলা থাকা অবস্থায় বাড়ি করলে সেই বাড়িতে আজীবন ধন-সম্পদে পরিপূর্ণ থাকে অর্থাৎ ধনসম্পদে ভরে থাকে।

বাস্তুশাস্ত্রীকেও প্রয়োজনে জ্যোতিষের সাহায্য নিতে হয়।বাস্তুশাস্ত্রী কোনও জমিতে বাড়ি তৈরির পূর্বে সেই ভূমি জীবিত না মৃত তা প্রথমে নির্ণয় করেন।তারপর তিনি ভূমির শয়ন ও জাগরণ নির্ধারণ করেন।এই সমস্ত কিছুই জ্যোতিষবিদ্যার সাহায্য ব্যতিরেকে অসম্ভব।যিনি বাড়ি তৈরি করবেন তাঁর কোষ্ঠী অনুসারে বাড়ির মূখ্য দ্বারের দিক, ভবন ক্রয় বা জমিতে ভবন নির্মাণ শুরুর দিন, গৃহপ্রবেশের শুভদিন, তিথি-মুহূর্ত ইত্যাদি নির্দিষ্ট করা দরকার।বাস্তুশাস্ত্র মতে গ্রাম চয়ন, দিক চয়ন, কূপ খনন, হলকষর্ণ, বীজ বপন, বীজ রোপণ, গৃহনির্মাণ, দ্বার চয়ন, গৃহপ্রবেশের মুহূর্ত প্রভৃতি জ্যোতিষের ভিত্তিতেই করা হয়।সুতরাং জ্যোতিষশাস্ত্র ও বাস’শাস্ত্র অঙ্গাঅঙ্গিভাবে একে অপরের সম্পর্কযুক্ত ও পরিপূরক।

বাস্তুমুহূর্ত ও গৃহপ্রবেশ

চিত্রঃ

গৃহপ্রবেশ (১) – অপূর্ব : নিজ তৈরি বাড়ি বা ফ্ল্যাটে প্রথম প্রদার্পণ।
গৃহপ্রবেশ (২) – সপূর্ব : বহুদিন পর তীর্থযাত্রা অথবা প্রবাসে থাকার পর পুনঃপ্রবেশ।
গৃহপ্রবেশ (৩) – দ্বন্দ্বহ : কোনও কারণে বাড়ি নষ্ট হওয়ার পর পুনর্নির্মাণ করে পুনর্গৃহপ্রবেশ।
বাস্তুমুহূর্ত (৪) – বাড়ি নির্মাণ শুরু করা।
বাস্তুমুহূর্ত (৫) – কুয়ো খনন, টিউবওয়েল খনন।
বাস্তুমুহূর্ত (৬) – শিলান্যাস।
পাঠকের সুবিধার্থে মাস, তিথি, নক্ষত্র, যোগ, মুখ্য প্রবেশদ্বার ও বার অনুসারে বাস্তুমুহূর্ত ও সর্বপ্রকার গৃহপ্রবেশের তালিকা পরের পাতায় সন্নিবেশিত হলো।
তালিকাগুলি উপ
রে বর্ণিত ১, ২, ৩, ৪, ৫, এবং ৬ ক্রম অনুসারে সজ্জিত।

 

(Commenting: OFF)

ভারতীয় বা বিশেষ করে ভারতের বাস্তুবিদরা বিভিন্ন বইতে লিখেছেন যে, অপরের গৃহে কালাতিপাত ও বসবাস সম্মানের পরিপন্থী।সে কারণে নিজ গৃহ নির্মাণ অবশ্যই জরুরী।ইসলামিক দিক দিয়ে চিন্তা করলে ঐ উক্তিটি আমরা কেউই গ্রহণ করব না।ভারতেও অপরের গৃহে মানুষ অর্থ প্রদান করে বসবাস করে থাকেন তদ্রুপ পৃথিবীর প্রতিটি দেশে।এমন কোন দেশ নেই যেখানে ভাড়াটিয়া নেই।যেহেতু বসবাসকারী নির্দিষ্ট ভাড়া প্রদান করে বসবাস করবেন সেহেতু সম্মানের পরিপন্থী কিভাবে হলো।তৎকালীন ভারতীয় মুনি-ঋষিগণ মানুষকে দাসত্বের আবদ্ধে রাখার জন্য এমন উক্তি করেছেন, যেটা আজ গোটা ভারতে বিদ্যমান।ব্রাহ্মণ, চক্রবর্তী, ক্ষত্রিয় সহ বহুপ্রকার গোত্রে তারা বিভক্ত আমরা মুসলমানরা বিভক্ত নই।আমাদের একটি মাত্র গোত্র সেটা হচ্ছে “মুহাম্মদী” গোত্র।আমরা এক আল্লাহ্‌র শুকরিয়া আদায় করি, আমাদের তীর্থস্থানও একটি, পবিত্র মক্কা, মদীনা।

পাঠকবৃন্দ এ ধরনের বাস্তুশাস্ত্রের বই পড়ে নিজে গোনাহ্‌গার হওয়ার চেষ্টা করবেন না।আমি শুরুতেই বলেছি পূর্বের সংখ্যাগুলিতে।আপনারা পড়েছেনও বটে যে বাস্তু, জ্যোতিষ, তন্ত্রশাস্ত্র, মুসলমান সমপ্রদায়ের বিজ্ঞানীরাই সর্ব প্রথম আবিস্কার করেন।তন্‌ + মন্ত্র = তন্ত্র অর্থাৎ সক্রিয় দেহে কোন আয়াত বা সূরা পড়লেই তন্ত্র হয়ে গেল।মন্ত্র বলতে কোন খারাপ আয়াত নয়, শব্দটি সংস্কৃতি ভাষা থেকে এসেছে পার্থক্য এখানেই।কথা লিখার উদ্দ্যেশ্য হলো ২০০০ সালের পর থেকে কিছু মানুষ আমার কাছে এসে দুঃখ প্রকাশ করলেন যে, অন্যের বাড়ীতে ভাড়া থাকি, আমার সম্মান আর রইলো না, সঙ্গে বইও দেখালেন যা ভারত থেকে প্রকাশিত (এমনিতে আমাদের মধ্যে বিদেশী কোন কিছু গ্রহণ করার ভাব প্রবণতা বেশী)।বিষয়টি তাদের বুঝিয়ে বলার পর তারা বুঝতে পারলেন।বাংলাদেশে অনেক সম্মানিত হিন্দু পরিবার মানুষের বাড়ীতে অর্থের বিনিময়ে ভাড়া থাকেন।তাই বলে তাঁদের কি কোন সম্মান নেই, ঠিক তদ্রুপ সকল ধর্মের মানুষের ক্ষেত্রে।ভারতীয় বাস্তুবিদদের মতামত গ্রহণ করলে প্রায় ৮৮% মানুষকে উম্মুক্ত আকাশের নীচে বসবাস করতে হবে।সুতরাং আপনাকে ভাবতে হবে আপনি সম্মানের সহিত ভাড়া থাকেন, যতদিন পর্যন্ত আপনি ভাড়া থাকবেন ততদিন পর্যন্ত ঐ নির্দিষ্ট ভাড়াকৃত অংশের আপনি মালিক পার্থক্য এইটুকুই যে আপনার স্থায়ী কোন দলিল পত্র নেই, কিন্তু অস্থায়ী তো আছে।

আপনারা যাতে ভ্রান্ত ধারণা পোষণ না করেন এই জন্যই এটুকু আমার লিখা।

আদিকালের কোন উদাহরণ আমি দিব না।এর প্রয়োজনও নেই।জনসংখ্যার চাপে মানুষের আবাসস্থানের সমস্যা শুধু বাংলাদেশেই নয় পৃথিবীর সর্বত্র দেখা দিয়েছে।সামাজিক প্রাণী হিসাবে মানুষ তৈরী করে ফেলছে বহুতল আবাসিক ভবন যেটাকে আমরা এ্যাপার্টমেন্ট বলে থাকি।আমার জন্মস্থান ঢাকার মতিঝিলে, পৈত্রিক বাড়ী কমলাপুর জসিমউদ্দিন রোডে, আমরা সে সময় যে মাঠে ক্রিকেট, ফুটবল ইত্যাদি খেলা খেলতাম সেখানে এখন রেলওয়ে ভবন, সি.এস.ডি গোডাউন খোদ আমাদের বাড়ী ও মহল্লার বাড়ী বহুতল বিশিষ্ট যা ছোটবেলায় দেখিনি।জমিতেও টান পড়েছে, ঢাকা সহ বিভিন্ন মহানগরীর মানুষ বসবাসের জন্য ধানের ক্ষেত এমনিক ডোবা জমিও বেছে নিয়েছে।পত্রিকার বিজ্ঞাপনে অন্তত তাই প্রমাণ করে।এ্যাপার্টমেন্টের দিকেও মানুষের ঝোঁক প্রবল, মানুষ তার সাধ্যের মধ্যে বসবাসযোগ্য এ্যাপার্টমেন্টও পাচ্ছে।দূষণের বিষয়ও ভাবতে হবে, যত উপরে উঠা যাবে ততই দূষণ কম, এটাও বহুতল বাড়ীর আরেক আকর্ষণ।ফ্ল্যাটবাড়ী বা এ্যাপার্টমেন্টের নকসা যিনি তৈরী করবেন, সেই আর্কিটেক্টারকে তাঁর বিশেষ কর্মযোগ্য তার পরিচয় দিতে হবে।আর্কিটেক্ট প্রকৌশলীরও বিশেষ জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে বাস্তুশাস্ত্রের উপর।কিন্তু বড়ই পরিতাপের বিষয় যে আমাদের দেশের নক্সা প্রণয়কারীর এই বিষয়ে অভিজ্ঞতার কোন প্রমাণ আমি এখনও পেলাম না যদি পেতাম তবে আমাকে নির্মিত বাস্তু সংশোধন করতে হতো না।বাংলাদেশ সরকারের এই বিষয়ে তেমন কোন নীতিমালা এখনও নির্ধারণ হয়নি বিশেষ করে রাজউক, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসিটির কেউই এই বিষয়ে কোন প্রকার পদক্ষেপ আজও গ্রহণ করেনি।

বহুতল ভবনই হোক বা ছোট ভবনই হোক নক্সা প্রণয়নকারীর অন্তরের শৃংক্ষলার বাহিরের শৃঙ্ক্ষলার অভিব্যক্ত হতে হবে।তার ফলে তাঁদের সংস্পর্শে যাঁরা আসেন বা যে বস্তু আসে তারা সেই বস্তু উক্ত শৃঙ্ক্ষলা দ্বারা প্রবাহিত হয়।বস’ও সেই অনুসারে রূপ নেয়।একটি ভবন যা পারিপার্শ্বিক অবস্থাও অন্তরের শৃঙ্ক্ষলার সংবেদনশীল বোধের ভিতর দিয়ে গভীর চিন্তার মাধ্যমে নির্মাণ করা উচিত বাস্তুশাস্ত্রানুযায়ী।বসবাসকারী গৃহস্থ্য সেখানে আজীবন বসবাস করে উপকৃত হতে পারবেন।প্রাকৃতিক নিয়মের বিশুদ্ধতার সঙ্গে এক সুরে বেঁধে নেয়া অত্যন্ত প্রয়োজন, কারণ এর দ্বারা সৃষ্টির পথ তৈরী হয় এবং মানুষের চরম আনন্দ ও সুখময় জীবন প্রদান করে।এটা হলো শাস্ত্রসম্মতভাবে সর্বপ্রকার শিল্পের ভিত্তি।পরিশ্রম সাপেক্ষে বহুতল ভবন বা রাস্তাই হোক বাস্তু পরিকল্পনাকারীর পক্ষে গভীর মনোযোগ সম্মাত হওয়া এবং প্রাকৃতিক নিয়মের আন্তরিক উপনদী দ্বারা নক্সা প্রস্তুত করা বিশেষ প্রয়োজন যাঁরা বহুতল ভবন নির্মাণ করবেন তারা আর্কিটেক্ট প্রকৌশলীর যে বিষয় গুলি দেখবেন তা নিম্নরূপঃ-

যাঁরা বহুতল ভবন নির্মাণ করবেন তারা আর্কিটেক্ট প্রকৌশলীর যে বিষয় গুলি দেখবেন তা নিম্নরূপঃ-
১।
অন্তরের রূপঃ দৃঢ়তা, শৃঙ্ক্ষলা, সৃজনশক্তি সবই ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার অংশ।
২।
বাহিরে অভিব্যক্তিঃ বস্তু তাত্ত্বিক ধারণা বা স্পর্শযোগ্য হতে পারে, যা রূপকারের সৃষ্টির উদ্যোগের অভিব্যক্তি।সৃষ্টবস্তু ও ব্যবহারকারীর মধ্যে সামঞ্জস্য বাস্তুশাস্ত্র মতে নির্ধারণ করা চাই।বস্তুটির মনোরম রূপের ব্যবহারকারীর মধ্যে প্রীতিকর অনুভূতির উদ্রেক করা চাই।মূল অঙ্গীকার হলো আমাদের প্রত্যেককে পছন্দমত (বাস্তু শাস্ত্রানুযায়ী) আত্মপ্রকাশের ভঙ্গিময় অন্তরের গভীর প্রশান্তি ও শৃঙ্খলা আনয়ন করতে হবে।কারণ যাঁরা নির্মিত স্থান দর্শন করেন, তাঁরা অনুপ্রেরণা পেয়ে থাকেন এবং সুন্দর জিনিস উপহার দেয়ার অর্থ হলো আত্মোন্নতি ও আত্মজ্ঞান লাভ।
৩।
কার্যপ্রণালীঃ সৌন্দর্য্য বিজ্ঞান, এবং বাস্তুস্থানের আধ্যাত্মিক সমৃদ্ধি তথা বাস্তুস্থানের প্রতি প্রতিক্রিয়ার উপলদ্ধি।
৪।
নক্সা প্রস্তুতকারকঃ বসবাসকারী, মুক্ত স্থান এবং গৃহ, তথা গঠণ ও আকারের কেন্দ্রস্থান হৃদয়ঙ্গম করা।
৫।
পারিপার্শ্বিক নৈসর্গিক অবস্থা এবং প্রতিরূপ।
৬।
নির্দিষ্ট দিকে আবর্তনের তাৎপর্য।
৭।
নির্মিত ভবনের আকার, বর্ণ ও আয়তনের গুরুত্ব।
৮।
মানুষের জীবনের সৃষ্টিতত্ত্বের (Cosmolory) গুরুত্ব।

বাস্তুশাস্ত্র আইন মেনে দেয়াল আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা, প্রধান প্রবেশ দ্বার বা মেইন গেট, গৃহ প্রবেশের প্রধান দরজা বাথরুম, রান্নাঘর ও অন্যান্য ঘর তৈরী করতে হবে।পৃথক বা স্বাধীন বাড়ীর নক্সার তুলনায়, বহুতল ভবনের নক্সা রাজউক কর্তৃপক্ষের নিয়মকানুন মেনে এবং সর্ব বিষয়ে চিন্তা করে বহুতল ফ্ল্যাট বাড়ীর নক্সা প্রস্তুত করা কষ্ট সাধ্য ও সময় সাপেক্ষ।যেহেতু নক্সা প্রস্তুতকারী প্রকৌশলী নকসার বৈধতার অনুমতি পাবেন, যুক্তির মাধ্যমে সেহেতু এটা কোন বিশেষ কষ্ট সাধ্য ব্যাপার নয়।একজন স্থাপত্য প্রকৌশলীর ও বহুতল বা একতল ভবন নির্মাতার সঠিক যোগ্যতা পরিমাপ করা যাবে তখনই যখন তিনি প্রতিটি ফ্ল্যাট বাস্তুশাস্ত্রানুযায়ী নির্মাণ করবেন।ভবনের রুম, বাথরুম, রান্নাঘর, ইবাদতের রুম, ফ্রিজ, টিভি, বৈদ্যুতিক যাবতীয় বস্তু আলমারি স্থাপনের স্থান সব কিছু এমন ভাবে বাস্তুশাস্ত্র সম্মতভাবে তৈরী করবেন যাতে করে বসবাসকারী সর্বদিক থেকে উপকৃত হতে পারেন।এটাই স্থাপত্য প্রকৌশলীর গৌরবময় কৃতিত্ব, আর্থিক লাভের সংগে সংগে এই কৃতিত্বও উল্লেখযোগ্য প্রণিধান।
বহুতল ফ্ল্যাটবাড়ী কিভাবে বাস্তুশাস্ত্রানুযায়ী নির্মাণ করতে হবে এবার সে বিষয়ে বেশ কিছু বিধান বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থানের উপর নির্ভর করে লিপিবদ্ধ করলাম।লিখিত বিধান অন্য দেশে প্রয়োগ করবেন নাPlease, এতে ক্ষতির সম্ভাবনা বিদ্যমান।
জমিঃ বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য জমির প্রয়োজন তো হবে তবে জমিটি যেন জলাশয় ভরাটকৃত জমি না হয়, (কমপক্ষে ১৮ বৎসর) আঠারো বৎসর পূর্বে জলাশয় ভরাটকৃত জমি হলে তেমন বিশেষ সমস্যা নেই।
জমি আয়তাকার সর্বোত্তম, নয়তো বর্গাকার ।
জমিটি দক্ষিণ ও পশ্চিম দিক উঁচু থাকতে হবে, পূর্ব ও উত্তর দিক হবে নীচু।এ রকম পরিস্থিতির জমি আমাদের নগরে পাওয়া যায় না তাই ভবন নির্মাণে জমিকে এইভাবে উপযোগী করে নিতে হবে। এতে করে বৃষ্টির পানি ঢালুর দিকেই প্রবাহিত হবে যা আমাদের জন্য শুভ।
সেই জমিই সর্বোত্তম যার চার দিকে রাস্তা আছে, ভবন নির্মাণের জমির উত্তর ও পূর্ব দিকে রাস্তা থাকলে উত্তম জমি হিসাবে বিবেচিত এবং এধরণের জমিতে ভবনের প্রধান গেট – বাস্তুশাস্ত্র মতে উত্তর ও পূর্ব দিকে নির্মাণ করতে হবে।
একটা বিষয়ে বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হবে যে, যে জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে সে জমির দিক ও কোণ যেন সঠিক হয় অর্থাৎ উত্তর যেন সঠিক উত্তরই হয়।তবে ০৭০ বাঁ, ডান দিক এদিক ওদিক হলে তা ধর্তব্যের আওতাভূক্ত নয়।ঢাকাতে, সিলেটে- ০৫০, চট্টগ্রামে- ০৩০ খুলনায়- ১০০ , রাজশাহীতে- ০৮০, বরিশালে- ০১ ডিগ্রীও নয়।দিক নির্ণয় যন্ত্র দ্বারা দিক নির্ণয় করে নিবেন।উল্লেখিত ডিগ্রীগত পরিমাপের বেশী পরিমাণ হলে উক্ত জমি, ভবন, ফ্ল্যাট ক্রয় করবেন না।যদিও করে থাকেন তবে সংশোধনে বহুব্যয় করতে হবে।পক্ষান্তরে উক্ত আবাসস্থলে, বাণিজ্যস্থলে বহুবিধ সমস্যা দেখা যায় যার মিমাংসা করতে বহুশ্রম ব্যয় করতে হয়।পূত্র-কন্যাদের বিবাহ বিলম্ব সহ বহুশুভ কর্মে ব্যাঘাত ঘটে।
যে কোন জমির বায়ু কোণ ৯০০ থাকলে ভাল, উত্তর-পূর্ব দিকে সামান্য প্রসারিত থাকলে উত্তম।দক্ষিণ ও পশ্চিমের তুলনায় উত্তর ও পূর্ব দিকে ভবন নির্মাণের সময় জমির অংশ বেশী জায়গা রাখতে হবে।
বাস’শাস্ত্রানুযায়ী উত্তর-পূর্ব অর্থাৎ ঈশান দিক ও কোণ হলো শীতল স্থান ফলশ্রুতিতে আন্ডার গ্রাউন্ড পানির রিজার্ভ ট্যাংক উক্ত দিকেই নির্মাণ করতে হবে।গভীর নলকূপ ও উক্ত দিক ও কোণে থাকবে।
ওভার হেড ট্যাংক তৈরী করতে হবে নৈঋত কোণের পশ্চিমে অথবা কোণ বারাবর।অন্যদিকে কিছুতেই করা যাবে না।
ভবণের নৈঋত কোণ বা দিকে সিঁড়ি ও লিফ্‌ট বসবে।স্থানাভাবে দক্ষিণ বা পশ্চিম দিকে সিঁড়ি ও লিফ্‌ট নির্মাণ করা যাবে। কিন্তুকোন ক্রমেই উত্তর, পূর্ব, ঈশাণ কোণে নয়।
আধুনিক সময়ে বাংলাদেশে প্রায় প্রতিটি বহুতল ফ্ল্যাট বাড়ীতে বৈদ্যুতিক জেনারেটর স্থাপন করা হয়। উক্ত জেনারেটর অগ্নি কোণে স্থাপন করা সর্বোত্তম।সম্ভব না হলে দক্ষিণ পূর্ব দিকের দক্ষিণ ঘেষে পূর্ব দিকে স্থাপন করতে হবে।
ভবনের সীমানা দেয়াল দক্ষিণ ও পশ্চিম দিক উঁচু হবে।প্লাষ্টারও মোটা হবে।উত্তর, পূর্ব দিকের সীমানা দেয়াল নীচু হবে।
গাড়ী রাখার গ্যারেজ থাকবে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব দিকে (যদি বেসমেন্ট করা)।যদি বেসমেন্ট না করা হয় তবে অগ্নি কোণে থাকবে।বেসমেন্ট করার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে নৈঋত, পশ্চিম, দক্ষিণ দিকে বেসমেন্ট করা যাবে না।
বর্তমান সময়ে বহুতল আবাসিক বসবাসের ভবনে দোকান বা অফিস নির্মানের হিড়িক পড়েছে, যা বাস’শাস্ত্রের বিপরীতে।এতে করে হয় দোকানী লাভবান হয়ে যায়, নতুবা গৃহস্থ্য।এরূপ বহুতল ভবন বসবাসের জন্যনিম্নতম উপযোগী।
বহুতল ফ্ল্যাট বাড়ী, ছোট বাড়ীর মেইন গেট ও গৃহ প্রবেশের মূখ্য দ্বার কোন দিকে কিভাবে রাখবেন তা চিত্রের মাধ্যমে দেখানো হলো।
বহুতল ফ্ল্যাট বাড়ী, ছোট বাড়ীর মেইন গেট ও গৃহ প্রবেশের মূখ্য দ্বার কোন দিকে কিভাবে রাখবেন তা চিত্রের মাধ্যমে দেখানো হলো।
যাঁরা বহুতল ভবন নির্মাণ করবেন তারা আর্কিটেক্ট প্রকৌশলীর যে বিষয় গুলি দেখবেন তা নিম্নরূপঃ-

যাঁরা বহুতল ভবন নির্মাণ করবেন তারা আর্কিটেক্ট প্রকৌশলীর যে বিষয় গুলি দেখবেন তা নিম্নরূপঃ-
অন্তরের রূপঃ দৃঢ়তা, শৃঙ্ক্ষলা, সৃজনশক্তি সবই ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার অংশ।
বাহিরে অভিব্যক্তিঃ বস্তু তাত্ত্বিক ধারণা বা স্পর্শযোগ্য হতে পারে, যা রূপকারের সৃষ্টির উদ্যোগের অভিব্যক্তি। সৃষ্টবস্তু ও ব্যবহারকারীর মধ্যে সামঞ্জস্য বাস্তুশাস্ত্র মতে নির্ধারণ করা চাই। বস্তুটির মনোরম রূপের ব্যবহারকারীর মধ্যে প্রীতিকর অনুভূতির উদ্রেক করা চাই। মূল অঙ্গীকার হলো আমাদের প্রত্যেককে পছন্দমত (বাস্তু শাস্ত্রানুযায়ী) আত্মপ্রকাশের ভঙ্গিময় অন্তরের গভীর প্রশান্তি ও শৃঙ্খলা আনয়ন করতে হবে। কারণ যাঁরা নির্মিত স্থান দর্শন করেন, তাঁরা অনুপ্রেরণা পেয়ে থাকেন এবং সুন্দর জিনিস উপহার দেয়ার অর্থ হলো আত্মোন্নতি ও আত্মজ্ঞান লাভ।
কার্যপ্রণালীঃ সৌন্দর্য্য বিজ্ঞান, এবং বাস্তুস্থানের আধ্যাত্মিক সমৃদ্ধি তথা বাস্তুস্থানের প্রতি প্রতিক্রিয়ার উপলদ্ধি।
নক্সা প্রস্তুতকারকঃ বসবাসকারী, মুক্ত স্থান এবং গৃহ, তথা গঠণ ও আকারের কেন্দ্রস্থান হৃদয়ঙ্গম করা।
পারিপার্শ্বিক নৈসর্গিক অবস্থা এবং প্রতিরূপ।
নির্দিষ্ট দিকে আবর্তনের তাৎপর্য।
নির্মিত ভবনের আকার, বর্ণ ও আয়তনের গুরুত্ব।
মানুষের জীবনের সৃষ্টিতত্ত্বের (Cosmolory) গুরুত্ব।
বাস্তুশাস্ত্র আইন মেনে দেয়াল আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা, প্রধান প্রবেশ দ্বার বা মেইন গেট, গৃহ প্রবেশের প্রধান দরজা বাথরুম, রান্নাঘর ও অন্যান্য ঘর তৈরী করতে হবে। পৃথক বা স্বাধীন বাড়ীর নক্সার তুলনায়, বহুতল ভবনের নক্সা রাজউক কর্তৃপক্ষের নিয়মকানুন মেনে এবং সর্ব বিষয়ে চিন্তা করে বহুতল ফ্ল্যাট বাড়ীর নক্সা প্রস্তুত করা কষ্ট সাধ্য ও সময় সাপেক্ষ। যেহেতু নক্সা প্রস্তুতকারী প্রকৌশলী নকসার বৈধতার অনুমতি পাবেন, যুক্তির মাধ্যমে সেহেতু এটা কোন বিশেষ কষ্ট সাধ্য ব্যাপার নয়। একজন স্থাপত্য প্রকৌশলীর ও বহুতল বা একতল ভবন নির্মাতার সঠিক যোগ্যতা পরিমাপ করা যাবে তখনই যখন তিনি প্রতিটি ফ্ল্যাট বাস্তুশাস্ত্রানুযায়ী নির্মাণ করবেন। ভবনের রুম, বাথরুম, রান্নাঘর, ইবাদতের রুম, ফ্রিজ, টিভি, বৈদ্যুতিক যাবতীয় বস্তু আলমারি স্থাপনের স্থান সব কিছু এমন ভাবে বাস্তুশাস্ত্র সম্মতভাবে তৈরী করবেন যাতে করে বসবাসকারী সর্বদিক থেকে উপকৃত হতে পারেন। এটাই স্থাপত্য প্রকৌশলীর গৌরবময় কৃতিত্ব, আর্থিক লাভের সংগে সংগে এই কৃতিত্বও উল্লেখযোগ্য প্রণিধান।
বহুতল ফ্ল্যাটবাড়ী কিভাবে বাস্তুশাস্ত্রানুযায়ী নির্মাণ করতে হবে এবার সে বিষয়ে বেশ কিছু বিধান বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থানের উপর নির্ভর করে লিপিবদ্ধ করলাম। লিখিত বিধান অন্য দেশে প্রয়োগ করবেন না Please, এতে ক্ষতির সম্ভাবনা বিদ্যমান।
জমিঃ বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য জমির প্রয়োজন তো হবে তবে জমিটি যেন জলাশয় ভরাটকৃত জমি না হয়, (কমপক্ষে ১৮ বৎসর) আঠারো বৎসর পূর্বে জলাশয় ভরাটকৃত জমি হলে তেমন বিশেষ সমস্যা নেই।
জমি আয়তাকার সর্বোত্তম, নয়তো বর্গাকার ।
জমিটি দক্ষিণ ও পশ্চিম দিক উঁচু থাকতে হবে, পূর্ব ও উত্তর দিক হবে নীচু। এ রকম পরিস্থিতির জমি আমাদের নগরে পাওয়া যায় না তাই ভবন নির্মাণে জমিকে এইভাবে উপযোগী করে নিতে হবে। এতে করে বৃষ্টির পানি ঢালুর দিকেই প্রবাহিত হবে যা আমাদের জন্য শুভ।
সেই জমিই সর্বোত্তম যার চার দিকে রাস্তা আছে, ভবন নির্মাণের জমির উত্তর ও পূর্ব দিকে রাস্তা থাকলে উত্তম জমি হিসাবে বিবেচিত এবং এধরণের জমিতে ভবনের প্রধান গেট – বাস্তুশাস্ত্র মতে উত্তর ও পূর্ব দিকে নির্মাণ করতে হবে।
একটা বিষয়ে বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হবে যে, যে জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে সে জমির দিক ও কোণ যেন সঠিক হয় অর্থাৎ উত্তর যেন সঠিক উত্তরই হয়। তবে ০৭০ বাঁ, ডান দিক এদিক ওদিক হলে তা ধর্তব্যের আওতাভূক্ত নয়। ঢাকাতে, সিলেটে- ০৫০, চট্টগ্রামে- ০৩০ খুলনায়- ১০০ , রাজশাহীতে- ০৮০, বরিশালে- ০১ ডিগ্রীও নয়। দিক নির্ণয় যন্ত্র দ্বারা দিক নির্ণয় করে নিবেন। উল্লেখিত ডিগ্রীগত পরিমাপের বেশী পরিমাণ হলে উক্ত জমি, ভবন, ফ্ল্যাট ক্রয় করবেন না। যদিও করে থাকেন তবে সংশোধনে বহুব্যয় করতে হবে। পক্ষান্তরে উক্ত আবাসস্থলে, বাণিজ্যস্থলে বহুবিধ সমস্যা দেখা যায় যার মিমাংসা করতে বহুশ্রম ব্যয় করতে হয়। পূত্র-কন্যাদের বিবাহ বিলম্ব সহ বহুশুভ কর্মে ব্যাঘাত ঘটে।
যে কোন জমির বায়ু কোণ ৯০০ থাকলে ভাল, উত্তর-পূর্ব দিকে সামান্য প্রসারিত থাকলে উত্তম। দক্ষিণ ও পশ্চিমের তুলনায় উত্তর ও পূর্ব দিকে ভবন নির্মাণের সময় জমির অংশ বেশী জায়গা রাখতে হবে।
বাস’শাস্ত্রানুযায়ী উত্তর-পূর্ব অর্থাৎ ঈশান দিক ও কোণ হলো শীতল স্থান ফলশ্রুতিতে আন্ডার গ্রাউন্ড পানির রিজার্ভ ট্যাংক উক্ত দিকেই নির্মাণ করতে হবে। গভীর নলকূপ ও উক্ত দিক ও কোণে থাকবে।
ওভার হেড ট্যাংক তৈরী করতে হবে নৈঋত কোণের পশ্চিমে অথবা কোণ বারাবর। অন্যদিকে কিছুতেই করা যাবে না।
ভবণের নৈঋত কোণ বা দিকে সিঁড়ি ও লিফ্‌ট বসবে। স্থানাভাবে দক্ষিণ বা পশ্চিম দিকে সিঁড়ি ও লিফ্‌ট নির্মাণ করা যাবে। কিন্তু কোন ক্রমেই উত্তর, পূর্ব, ঈশাণ কোণে নয়।
আধুনিক সময়ে বাংলাদেশে প্রায় প্রতিটি বহুতল ফ্ল্যাট বাড়ীতে বৈদ্যুতিক জেনারেটর স্থাপন করা হয়। উক্ত জেনারেটর অগ্নি কোণে স্থাপন করা সর্বোত্তম। সম্ভব না হলে দক্ষিণ পূর্ব দিকের দক্ষিণ ঘেষে পূর্ব দিকে স্থাপন করতে হবে।
ভবনের সীমানা দেয়াল দক্ষিণ ও পশ্চিম দিক উঁচু হবে। প্লাষ্টারও মোটা হবে। উত্তর, পূর্ব দিকের সীমানা দেয়াল নীচু হবে।
গাড়ী রাখার গ্যারেজ থাকবে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব দিকে (যদি বেসমেন্ট করা)। যদি বেসমেন্ট না করা হয় তবে অগ্নি কোণে থাকবে। বেসমেন্ট করার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে নৈঋত, পশ্চিম, দক্ষিণ দিকে বেসমেন্ট করা যাবে না।
বর্তমান সময়ে বহুতল আবাসিক বসবাসের ভবনে দোকান বা অফিস নির্মানের হিড়িক পড়েছে, যা বাস’শাস্ত্রের বিপরীতে। এতে করে হয় দোকানী লাভবান হয়ে যায়, নতুবা গৃহস্থ্য। এরূপ বহুতল ভবন বসবাসের জন্য নিম্নতম উপযোগী।
বহুতল ফ্ল্যাট বাড়ী, ছোট বাড়ীর মেইন গেট ও গৃহ প্রবেশের মূখ্য দ্বার কোন দিকে কিভাবে রাখবেন তা চিত্রের মাধ্যমে দেখানো হলো।

চিত্র:

৯/১
৯/১ ৯/১

সবুজ দাগ সমূহ টিক মার্ক মেইন গেট, স্বর্ণালী দাগগুলি গৃহ প্রবেশের মূখ্যদ্বার করতে হবে।জমির দৈর্ঘ্য প্রস্থ মেপে দ্বার প্রকরণ ঠিক করবেন।আমাদের এ কথা ভুললে চলবে না, যে মেইন গেট এবং মূখ্যদ্বার যদি আমরা সঠিক স্থানে স্থপন করতে না পারি তবে উক্ত ভবন বা বাড়ীতে ঋণাত্বক শক্তি বেশী থাকবে এবং একের পর এক দুঃখ দূর্দশা আমাদেরকে ভোগ করতে হবে।
পক্ষান্তরে আমরা যদি চিত্রানুযায়ী বাস্তুশাস্ত্র সম্মতভাবে প্রধান গেট ও ফ্ল্যাটে প্রবেশের মূখ্যদ্বার স্থাপন করি তবে ধণাত্বক শক্তির সক্রিয় প্রভাব আমাদের বা বসবাসকারীদের উপর বর্ত্তাবে এবং গৃহস্থ্যের ঘর ধন-সম্পদে পরিপূর্ণ থাকবে যদি আভ্যন্তরীণ সকল নির্মাণ শাস্ত্রসম্মতভাবে হয় তবে।এই লেখা পড়ে কোন প্রকার ব্যঙ্গাত্বক, বা বিরূপ মন্তব্য করার পূর্বে নিজ নিজ অবস্থান অনুযায়ী, নিজেকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ রেখে চিন্তা করুন- মেইন গেট ও মূখ্য প্রবেশ দ্বার এবং আপনার পারিবারিক অবস্থা, দেখবেন আমি যা লিখলাম তা এক বিন্দুও প্রমাদযুক্ত নয়।
গৃহ প্রবেশের মূখ্যদ্বার খুব শক্ত, পুরু ও বাস্তুশাস্ত্রানুযায়ী শুভ বৃক্ষের নির্মাণ করা উচিত, গৃহের ভিতরের সকল দরজা সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া চাই।দরজা চৌকাঠ ও একই জাতীয় কাঠের হতে হবে।গৃহাভান্তরে দরজা জোড় সংখ্যার হতে হবে।প্রধান দরজার দৈর্ঘ্য যেন প্রস্থ্যের দ্বিগুণের বেশী হয়।প্রধান দরজা ভিতর থেকে ডান দিকে খুলবে অর্থাৎ Clockwise দরজা খোলা ও বন্ধের সময় যেন অতিরিক্ত শব্দ না হয়।শব্দহীন দরজা সর্বোত্তম।Please ধুড়-ম ধাড়-ম করে দরজা লাগাবেন না।
যতখানি সম্ভব, ঈশাণ, নৈঋত কোণ রান্নাঘরের জন্য অবশ্যই বর্জন করবেন।রান্নাঘর দক্ষিণ পূর্ব দিকের পূর্ব দক্ষিণ দিকে, অগ্নি কোণে সর্বোত্তম।এরূপ স্থান পাওয়া না গেলে বায়ু কোণ মন্দের ভাল।যিনি রান্না করবেন তাঁর মুখ থাকবে পূর্ব দিকে।রান্না ঘরে এডজাস্ট পাখা বসালে তা বসাতে হবে পূর্বে বা দক্ষিণে।পশ্চিম, দক্ষিণ দিকে আসবাব পত্র রাখার জন্য তাক তৈরী করে নিবেন।ভারী জিনিস নৈঋত কোণে রাখুন।
গোছলখানা বা বাথরুম পূর্ব দিকে নির্মাণ করতে হবে।ঈশাণ ও নৈঋত কোণে নির্মাণ করা যাবে না। গোছল করার সময় মুখ যেনথাকে পূর্ব দিকে, বেসিন বসালে এমন ভাবে বসাতে হবে যাতে করে দর্পন থাকে পূর্ব অথবা দক্ষিণ দিকে।গোছলখানা, শৌচাগার কোনক্রমেই রান্নাঘর, খাওয়ার ঘর সংযুক্ত ও বিপরীত দিকে যেন না থাকে।শৌচাগার বা বাথরুম থেকে খাওয়ার ঘর যেন সরাসরি দেখা না যায়।গোছল খানার পানি ঈশান কোন দিয়েই নির্গত হবে।শৌচাগার যদি গোছলখানার ভিতরেই হয় তবে প্যান বাথরুমের মেঝে থেকে আড়াই ফিট উঁচুতে বসাতে হবে।কমোড তো এমনিতেই উঁচু।শৌচাগারের দরজা প্লাষ্টিক বা এ জাতীয় ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরী করে বসালে চলবে।তবে ধাতব দরজা পরিত্যাজ্য।
খাওয়ার জায়গা যেটাকে আমরা ডাইনিং রুম বা হল বলি, সেটা থাকবে পশ্চিম দিকে, খাওয়ার টেবিল এমন ভাবে বসাতে হবে যাতে করে খাওয়ার সময় মুখ থাকে পূর্ব ও পশ্চিম দিকে।খাওয়ার স্পেস থেকে শৌচাগার, বাথরুম যেন দেখা না যায়।
প্রধান শোবার ঘর নৈঋত বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে নির্মাণ করতে হবে এবং এই রুমটি হবে কর্তা-কর্ত্রীর জন্য।অন্যান্য শোবার ঘর, বায়ু কোণে, উত্তর ও পূর্ব দিকে হবে। সব সময় শোবার সময় মাথা থাকবে দক্ষিণ দিকে।
বাংলাদেশের দক্ষিণে সাগর বিদ্যমান।তাই বারান্দা, ব্যলকনী দক্ষিণ দিকে নির্মাণ করা যাবে না। উত্তর, পূর্ব এবং ঈশাণ কোনেই নির্মাণ করতে হবে।বায়ু কোন মন্দের ভাল।
বহুতল ভবনের ছাদে যদি কোন কক্ষ নির্মাণ করা প্রয়োজন বোধ করেন তবে তা দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে, অথবা দক্ষিণে পশ্চিমে করবেন।অন্য দিক ও কোণে নির্মাণ করবেন না।
ঈশান কোণ, উত্তর, পূর্বদিকে জমি ফাঁকা রাখতে হবে অপেক্ষাকৃত অন্যান্য দিক ও কোণের তুলনায়।কিন্তু এত বহুতল ফ্ল্যাট বাসী বিশেষ কাজে লাগাতে পারবেন না, যদি আপনি এই ফাঁকা ও খোলা জায়গায় কিছু করতে চান, তবে ঈশাণ কোণে সর্বোত্তম, পানির ফোয়ারা করা, যদি রঙ্গিন পানির ফোয়ারা করেন তবে রঙ্গীন পানি যেন সোনালী বা হলুদ বর্ণের হয়।আবার সুন্দর ঘাসের লনও করতে পারেন।কিন্তু তুলসী গাছ ব্যতীত অন্যান্য গাছ লাগানো যাবে না।আপনি আপনার ফ্ল্যাট-এর অথবা বাড়ীর দক্ষিণ বা পশ্চিম দিকে এবং নৈঋত কোণে উঁচু বড় গাছ পাতা বাহার গাছ, বা এই দিক ও কোণে রকগার্ডেনও করতে পারেন।
নীচের তলা থেকে উপরের তলা উচ্চতায় কম হবে।নীচের তলা বরাবর দরজা যেন উপরের তলার স্থানে না হয় ২/৩ ইঞ্চি এদিক সেদিক করে রাখতে হবে।একইভাবে অন্যান্য তলা।
যত বেশী উপরে বসবাস করা যায় বায়ু চলাচল তত বেশী পরিমাণে সহজ হয়।যত বেশী উপরে থাকবেন দূষণের হার তত কম এবং মহাজাগতিক রশ্মির বা কসমিক এনার্জির তীব্রতা তত বেশী।বহুতল ভবনের ভূমিতল জমির স্তর থেকে চার থেকে ছয় ফুট উঁচু করতে হবে।ভুমিতল কম থাকলে মাটির মধ্যে অবস্থিত ঋণাত্বক বস্তু থেকে বিচ্ছুরিত ঋণাত্বক শক্তি সহজে আসতে সক্ষম হবে।কিন্তু ভুমিতলের উচ্চতা বেশী হলে ঋণাত্বক শক্তির প্রভাব কম হবে।বহুতল ভবনের প্রধান ষ্ট্রাকচার অপরিবর্তিত রেখে ঋণাত্বক বস্তু, যেমন- সিরামিক, কাঠ, সুরকি, পাথর, ক্রিষ্টাল, পিতল ইত্যাদি ব্যবহার বাড়ালে ফ্ল্যাটের গৃহস্থ্যদের জন্য উত্তম।ভবনের রংয়ের ক্ষেত্রে এ্যাক্রিলিক রং, সিন্থেটিক ভিনাইল, ফ্লোরিং, ফ্লোরোসেন্ট রং, পরিত্যাজ্য করতে হবে।কেননা এগুলি ঋণাত্বকবসস্তু এবং সর্ব প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর।ঋণাত্বক শক্তি মানব দেহে সিরোটিনিন ও হিষ্টামাইন উৎপন্ন করে, অসি’রতা বৃদ্ধি করে, হতাশা বাড়ায়, রোগের প্রকোপতা বৃদ্ধি করে।
তাই প্রাকৃতিক বস্তু ব্যবহার সর্বদিক দিয়ে শুভদায়ক।এই জন্য চুনকাম এবং ডিসটেম্পার ব্যবহার করা ভাল।কেননা এগুলি বাতাসকে শোষণ করে প্ররিস্রুত করতে সক্ষম।
ফ্ল্যাটের ছয়তলার উপর থেকে যত উপরে উঠবেন ততই ঋণাত্বক শক্তির প্রকোপতা কম।
দক্ষিণ-পশ্চিম শেষে উত্তর-পশ্চিম দিকে ঢালু বাড়াতে হবে, তবে অপেক্ষাকৃত বেশী ঢালু থাকবে ফ্ল্যাটের উত্তর, পূর্ব ও ঈশাণ কোণে।
পূর্বেই লিখেছি মূখ্য প্রবেশদ্বারের উচ্চতা মেইন গেটের তুলনায় অবশ্যই বেশী হতে হবে।
ফ্ল্যাটের দক্ষিণ-পশ্চিম দিক আবদ্ধ করে রাখবেন এবং উত্তর ও পূর্ব দিক খোলা মেলা রাখবেন।
বহুতল বাড়ী তৈরীর সময় স্লাব, বিম, কলাম ইত্যাদির অংশের প্লাষ্টার পুরু করতে হবে যাতে চৌম্বকীয় শক্তি হ্রাস পায়।
বহুতল ফ্ল্যাটের সর্বশেষ তলের ছাদ অবতল রাখা সব দিক থেকেই ভাল, এতে করে ছাদে পানি জমতে পারে না।সূর্য রশ্মি সরাসরি বা খাড়া না পড়ে কাত হয়ে পড়ায় ছাদও গরম কম হয়।
শুভনক্ষত্রাশ্রিত শুভ সময়, শুভদিনে, সম্পূর্ণ শুচিতা অবলম্বণ পূর্বক, নব বস্ত্র পরিধান করে মুসলমান সমপ্রদায়ভূক্তরা কোরান তেলওয়াত করিয়ে ও নিজে করে নব গৃহে প্রবেশ করবেন।হিন্দু সমপ্রদায়রা বাস্তু পূজো করিয়ে নিবেন, সঙ্গে বা পূর্বে, পরে পাঞ্চাঙ্গ স্বস্ত্যয়ন অষ্টাঙ্গ স্বতস্থ্যয়ন ক্রীয়াকর্ম করে নেয়া সর্বোত্তম বোধ করি।
এ কাজটা জ্যোতিষ ব্রাহ্মণ করতে সিদ্ধহস্ত, পূজোর ব্রাহ্মণ অনেক প্রকার পূজো করেন বিধায়, বাস্তু পুজো অনেক সময় তালগোল মিলিয়ে ফেলেন, তথাপি আপনার মনোনিতকে দিয়ে করানো সর্বোত্তম।
মুসলমান সমপ্রদায়রা প্রবেশ দ্বারের বাহিরে উপরে “বিস্‌মিল্লাহহির রাহমানির রাহিম” লেখা টাঙ্গিয়ে রাখবেন, ভিতরের দিকে “আয়াতুর কুরসী” বা অন্যান্য আয়াত, অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা নিজ নিজ ধর্মানুসারে মাঙ্গলিক চিহ্ন স্থপন করবেন।
কিন্তু উত্তরের পূর্বাংশ বা ঈশাণ কোণ নিয়ে যেন না ঘুমায় সে বিষয়ে সচেষ্ট হতে হবে।দরজা বরাবর যেন না ঘুমায় সেটাও লক্ষ্য রাখবেন।

বাস্তুমতে খামারবাড়ি

আধুনিক যুগে বড় বড় শহরে ব্যবসা- বাণিজ্য, অন্যান্য পেশায় ব্যস্ত জীবন থেকে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে এবং শহরের দূষণ থেকে কিছু সময়ের জন্য রেহাই পেতে গ্রাম্য পরিবেশে ফাঁকা নিরালায় সবুজায়ন করার ঝোঁক দেখা দিয়েছে।চারদিকে তরি-তরকারির খেত, নানারকম ফলের বাগান, কোথাও আবার গরু-মোষের গোয়াল, হাঁস-মুরগির পোল্ট্রি, মাঝখানে বাংলো ধরণের বসবাসের বাড়ি।কোনও কোনও খামারবাড়ি বা ফার্ম হাউসে পুকুর বা ছোট হৃদও থাকে।যাতে থাকে সুইমিং পুলের ব্যবস্থা।অনেক ফার্ম হাউসই বর্তমানে হলিডে রিসর্টে রূপান্তরিত হয়েছে।

এই সব ফার্ম হাউসের জন্যও বাস্তুবিদ্যার কিছু নিয়মের কথা বলা হয়েছে।ফার্ম হাউসের উত্তর ও পূর্ব দিকে যতটা সম্ভব বেশি ফাঁকা জায়গা রাখা উচিত।পূর্ব ও উত্তর দিকে দরজা হলে ভাল হয়।সুইমিং পুল থাকলে সেটিও হবেউত্তর-পূর্ব দিকে।কোনও অবস্থাতেই মাঝখানে সুইমিং পুল করা ঠিক নয়।

রান্নাঘর হবে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে।খাওয়ার জায়গা হবে রান্নাঘরের পশ্চিম দিকে।শোওয়ার ঘর হবে দক্ষিণ-পশ্চিম অথবা দক্ষিণ বা পশ্চিম দিকে।খাট, বিছানা এরকমভাবে পাততে হবে যাতে শোওয়ার সময় মাথা থাকবে দক্ষিণ, পূর্ব অথবা পশ্চিম দিকে।

শৌচাগার উত্তর-পশ্চিম বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে হবে।তবে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে শৌচাগার করতে হলে দক্ষিণ-পশ্চিম কোণের দিকটা ফাঁকা রেখে তবেই তা করতে হবে।উত্তর-পূর্ব দিকে শৌচাগার না করাই ভাল।

পূর্ব ও উত্তর দিকে বেশি খোলা বা জানালা করতে হবে।উত্তর ও দক্ষিণ দিকে থাকলে খুবই ভাল হবে।ছোট পাহাড় বা ঠিলা দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে থাকলে তো কথাই নেই।খুবই শুভ, খুবই ভাল।

সংক্ষেপে একটা বাড়ির জন্য বাস্তুবিদ্যায় যে সব নিয়ম মেনে চলার কথা বলা আছে তার সবটাই খামারবাড়ির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
হলিডে হোম ও হলিডে রিসোর্ট

হলিডে হোম হল বাড়ির বাইরের এমন এক বাস্তুস্থান যেখানে গিয়ে মনের শান্তি ও দেহের বিশ্রাম হয়।ঘরোয়া পরিবেশে প্রাত্যহিক একঘেয়ে জীবনযাত্রার মধ্যে কিছুটা পরিবর্তন ও একটু বৈচিত্রের স্বাদ পেতেই মানুষ হলিডে হোম অথবা রিসর্ট -এ ছুটে যান।এই হলিডে হোম ও রিসর্টের জন্যও বাস্তুবিদ্যায় কিছু নিয়ম আছে।অন্যান্য বাড়িঘরের মতোই হলিডে হোম বা হলিডে রিসর্টের জন্য জমি বাছাই করতে হবে যাতে সেখানকার আকর্ষণে মানুষ ছুটে যাবেন।

এ ধরণের জমিতে সুফল পেতে হলে উত্তর, উত্তর-পূর্ব অথবা পূর্ব নিচু থাকবে।নদী, হ্রদ, পুকুর, ছোট্ট নদী, জলাশয়, ঝরনা, জলপ্রপাত বা ফোয়ারা যদি থাকে তা হলে তার পানি বা স্রোত পশ্চিম দিক থেকে পূর্বমুখী অথবা দক্ষিণ থেকে উত্তরমুখী হলে খুব ভাল হয়।যদি প্রাকৃতিক পানির কোনও ব্যবস্থা না থাকে তা হলে ওই ‘দিক’ সংক্রান্ত নিয়ম মেনে কৃত্রিম ঝরনা বা জলপ্রপাত তৈরি করে নেওয়া যেতে পারে।পাহাড়, পর্বত, টিলা ইত্যাদি দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে থাকলে ভাল ফল পাওয়া যায়।হলিডে রিসর্ট অথবা হলিডে হোমে ধ্যান বা যোগাভ্যাসের জন্য হলঘর বা ঘর উত্তর-পূর্ব অথবা উত্তর দিকে তৈরি করতে হবে।এতে মনের প্রকৃত শান্তি পাওয়া যাবেই।

পূর্ব ও উত্তর দিকে পার্ক অথবা ফুলের বাগান করা হলে ভাল হয়।দক্ষিণ ও পূর্ব দিকে সুন্দর সুন্দর বড় গাছ লাগানো যেতে পারে।

হেল্‌থ ক্লাব, পার্লার সাওনা বাথ, মালিশ প্রভৃতির ব্যবস্থা রাখতে হবে পূর্ব দিকে।গলফ, টেনিস, ব্যাডমিন্টন, স্কোয়াশ কোর্ট ইত্যাদি উত্তর-পশ্চিম দিকে তৈরি করতে হবে।নানা রকমের খাবারের রেস্তরাঁ থাকবে দক্ষিণ-পূর্ব অথবা পশ্চিম দিকে।

রিসর্টের কটেজ অথবা সুন্দর কুঁড়েঘর তৈরি করতে হবে দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে।এইগুলিতে ঢোকার দরজা পূর্ব, উত্তর-পূর্ব অথবা উত্তর দিকে খোলা থাকবে।এই কটেজগুলিতে শোওয়ার ব্যবস্থা এরকমভাবে করতে হবে যাতে ঘুমোনোর সময় মাথা থাকে পূর্ব, পশ্চিম অথবা দক্ষিণ দিকে।ঘুমোবার সময় উত্তর দিকে মাথা কিছুতেই নয়।বিদ্যুৎচালিত সাজ-সরঞ্জাম যেমন হিটার, এয়ার কন্ডিশনার ইত্যাদি কটেজের দক্ষিণ-পূর্ব দিকেই থাকবে।

মিউজিক রুম বা প্রমোদভবন তৈরি করতে হবে উত্তর-পশ্চিম দিকে।এই দিক্‌টির ফাঁকা জমিতে মিউজিক বা এন্টারটেনমেন্ট রুম থাকলে ভাল হয়।

(Commenting: OFF)